ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও সুন্নাত
আল্লাহ তাআলা বলেন,রমজান মাস তাতে কুরআন নাযিল হয়েছে,যা মানুষের জন্য হিদায়াত
সৎপথ প্রাপ্তির স্পষ্ট নিদর্শন ও হক্ব-বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী। কাজেই তোমাদের
যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই এর রোজা রাখে এবং কেউ পীড়িত হলে কিংবা সফরে
থাকলে,তাকে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য
সহজসাধ্যতা চান,তোমাদের প্রতি কঠোরতা আরোপ করতে চান না এবং এই জন্য যে তোমরা
সংখ্যা পূরণ করবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর মহিমা বর্ণনা কর যে তিনি তোমাদেরকে
হিদায়াত করেছেন। আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। (সূরা বাকারা :১৮৫)
সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে ব্যক্তি হিসেবে মুসলিমদের একটি বড় ইবাদতের
মাধ্যমে যে অর্জন,তার জন্য সুস্থ ও নির্মল আনন্দ উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে।
সে অর্জন হচ্ছে এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা যাতে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য
পানাহার ও যৌনানন্দ থেকে বিরত থাকতে হয়। এটা মুমিন নর-নারীর জন্য
সুনির্দিষ্টভাবেই একটি বিরাট সফলতা ও কৃতিত্ব।
আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল
মুসলমানেরা ঈদের দিন জমায়েত হয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা
করেন। যারা ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্রতা ও নিষ্ঠা
সহকারে আল্লাহর শরণাপন্ন হয়,তিনি তাদের করুণা ও ক্ষমা করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
ঈদুল ফিতরে একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের সাথে মিলে অন্তর ও হৃদয় পরিশুদ্ধ করার
চেষ্টা করেন। এটাই তো ঈদের চেতনা। এ দিন একজন অন্যজনকে ক্ষমা করে দেন।
মুসলমানদের পারস্পরিক ক্ষমার ফলে আল্লাহ তাআলাও তাদের ক্ষমা করে দেন ও করুণা
বর্ষণ করেন। তাই তো বলা যায়,ঈদুল ফিতর ক্ষমার দিন। ঈদুল ফিতরের দিনটিতে মুসলমানরা
ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে একত্রিত হয়।মুসলমানদের জন্য বছরে শরীআত সম্মত
দুটি ঈদ রয়েছে।তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।অনেক মানুষ অজ্ঞতা,অলসতা বা অবহেলা ও
উদাসীনতাবশতঃঈদে নানা রকম ভুল-ভ্রান্তি করে থাকে। অতএব ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও
সুন্নাত সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
- ইসলামে ঈদ উৎসবের উৎপত্তি
- চাঁদ দেখার দোয়া পাঠ করা
- সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা
- গোসল করা
- উত্তম পোশাক পরিধান করা
- ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খেজুর খাওয়া
- ঈদের দিনে তাকবীর পড়া
- তাকবীর পাঠ করা
- তাকবীর পাঠ করতে করতে ঈদগাহে গমন করা
- নারীদের ঈদের সালাত
- একই রাস্তা দিয়ে ফিরে না আসা
- ঈদের সালাত আদায়ে অবহেলা না করা
- ঈদের রাতকে নফল ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট না করা
- বর্তমানে ঈদ উৎসব
- শেষ কথা
ইসলামে ঈদ উৎসবের উৎপত্তি
প্রথমে আমরা জানবো ইসলামে ঈদ উৎসব কখন থেকে শুরু হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নির্দেশে যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গেলেন। তিনি
সেখানে এসে অন্য রকম পরিবেশ দেখতে পেলেন। তিনি দেখলেন মদিনাবাসী জাহিলিয়াতের
শিক্ষা ও কালচারে প্রভাবিত হয়ে বসন্তের পূর্ণিমা রজনীতে'মেহেরজান'আর হেমন্তের
পূর্ণিমা রজনীতে'নওরোজ'নামক উৎসবে এমন সব আমোদ ফুর্তিতে মেতে উঠত যা কোনো সুস্থ
বিবেকবান লোকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তাই তিনি মদিনাবাসীকে ডেকে বললেন এ বিশেষ দিনে তোমাদের আনন্দ-উল্লাসের কারণ
কী?মদিনার নওমুসলিমরা তাঁকে বললেন,আমরা জাহেলি যুগ থেকে এ দুটি দিন এভাবেই পালন
করে আসছি। মহানবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,আল্লাহ তাআলা এ দুটি
দিনের পরিবর্তে অন্য দুটি দিন তোমাদের আনন্দ-উৎসব পালনের জন্য নির্ধারণ করে
দিয়েছেন। তার একটি হলো ঈদুল ফিতর,অন্যটি ঈদুল আজহা। তোমরা পবিত্রতার সঙ্গে এ
দুটি ঈদ বা উৎসব পালন করবে।(আবু দাউদ ও নাসায়ি)
চাঁদ দেখার দোয়া পাঠ করা
চাঁদ দেখার যে দোয়া তা আমরা অনেকেই পাঠ করি না। দোয়াটি কেবল ঈদে নয় বরং প্রতি
মাসে নতুন চাঁদ দেখে পাঠ করতে হবে। দোয়াটি হলো-আল্লাহু আকবর,আল্লাহুম্মা
আহিল্লাহূ আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফীকি
লিমা তুহিব্বু ওয়া তারযা রব্বি ওয়া রব্বুকাল্লাহ।
অর্থ-আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। হে আল্লাহ!আপনি আমাদের উপরে চাঁদকে উদিত করুন শান্তি
ও ঈমানের সাথে,নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে এবং আমাদেরকে ঐ সকল কাজের ক্ষমতা দানের
সাথে যা আপনি ভালবাসেন ও যাতে আপনি খুশী হন। (হে চন্দ্র)আমার ও তোমার প্রভু
আল্লাহ।(দারেমী হা ১৬৮৭-৮৮, তিরমিযী হা/৩৪৫১, মিশকাত হা/২৪২৮,ছহীহাহ হা/১৮১৬)।
সাদাকাতুল ফিতর আদায় করাঃ
সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও সুন্নাত এর একটি অংশ। সহীহ
বুখারীতে নাফে এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ)হতে ঈদের সালাতের পূর্বে
সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার কথা এসেছে (বুখারী হা/১৫১১-যাকাত অধ্যায়-অনুচ্ছেদ
৭৭)। কিন্তু পরবর্তী অনুচ্ছেদে নাফে (রাঃ)ইবনু ওমর (রাঃ)হতে সাদাকাতুল ফিতর
সংক্রান্ত আরেকটি হাদীস বর্ণনার পর বলেন,ইবনু ওমর(রাঃ)সাদাকাতুল ফিতর
জমাকারীদের নিকট ফিতরা প্রদান করতেন(ঐ-হা/১৫১২-ইবনু হাজার আসকালানী,ফাতহুল
বারী-৩/৪৭৯ পৃঃ)।
ইমাম বুখারী(রহঃ) বলেন, তারা জমা করার জন্য দিতেন ফকীরদের জন্য নয়। ছহীহ ইবনু
খুযায়মাতে আব্দুল ওয়ারেছের সূত্রে আইয়ূব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে,তাকে জিজ্ঞেস করা
হলো ইবনু ওমর(রাঃ) সাদাকাতুল ফিতর কখন প্রদান করতেন? তিনি বললেন,আদায়কারী বসলে।
তিনি আবার বললেন, আদায়কারী কখন বসতেন?তিনি বললেন,ঈদের সালাতের একদিন বা দুদিন
পূর্বে (ফাতহুল বারী-৩/৪৮০ পৃঃ)।
ইমাম মালিক(রহঃ) নাফে (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন ওমর (রাঃ) ঈদুল
ফিতরের দুদিন বা তিনদিন পূর্বে যাদের নিকট সাদাকাতুল ফিতর জমা করা হয় তাদের নিকট
ফিতরা প্রেরণ করতেন।(মুওয়াত্তা মালিক-১/২৮৫ পৃঃ -যাকাত অধ্যায়-যাকাতুল ফিতর
প্রেরণ-অনুচ্ছেদ)। তেমনি আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে
রমজানের যাকাত রক্ষার বা হেফাজতের দায়িত্ব প্রদান করেন (ফাতহুল বারী-৩/৪৮০ পৃঃ)।
যা দ্বারা বুঝা যায় যে,তিনি জমাকৃত সাদাকাতুল ফিতর পাহারা দিচ্ছিলেন। সুতরাং
প্রমাণিত হয় যে,ঈদের পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর জমা করা সুন্নাত।তাছাড়া ইবনু ওমর
(রাঃ)থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাঃ)আমাদেরকে ঈদের সালাতের পূর্বে
সাদাকাতুল ফিতর বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তা সালাতের পূর্বে বের করতাম এবং
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)সালাত শেষে তা বণ্টন করতেন।(ইরওয়াউল গালীল- ৩/৩৩২-৩৩ পৃঃ)। অতএব
সাদাকাতুল ফিতর ঈদের পূর্বে জমা করতে হবে এবং ঈদের সালাতের পরে বণ্টন করতে হবে।
এটাই সুন্নাতী তরীকা। (বিস্তারিত দ্রঃ ফাৎহুল বারী-হা/১৫১১-যাকাত অধ্যায় ৭৭
অনুচ্ছেদ-৩/৪৩৯-৪০ পৃঃ)।
গোসল করা
কোন কোন মানুষ ঈদের সালাতের জন্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও গোসল করা থেকে
বিরত থাকে। এটা ঠিক নয়। বরং ঈদের জন্য গোসল করা মুস্তাহাব। যাযান হতে বর্ণিত
তিনি বলেন,জনৈক ব্যক্তি আলী(রাঃ)কে গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল।
তিনি বললেন তুমি চাইলে প্রতিদিন গোসল করবে। সে বলল না এ গোসল নয়।বরং ঐ গোসল,যা
মুস্তাহাব তিনি বললেন, জুমআর দিন, আরাফার দিন, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন
নাফে (রহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের মাঠে যাওয়ার পূর্বে
গোসল করতেন।
উত্তম পোশাক পরিধান করা
মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ ঈদের সালাতের জন্য সুন্দর পোশাক পরিধান করে না,বরং
সালাতের পরে সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে বের হয়। এটা ঠিক নয়। বরং ঈদের সালাতের
জন্য যথাসম্ভব উত্তম পোশাক পরিধান করতে হবে। ইবনু আববাস (রাঃ)হতে বর্ণিত তিনি
বলেন,রাসূলুল্লাহ(সাঃ)ঈদের দিনে লাল বর্ণের চাদর পরিধান করতেন।
ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খেজুর খাওয়া
অধিকাংশ মানুষ ঈদুল ফিতরের দিনে শিরনি,সেমাই,ফিরনি,পায়েশ ইত্যাদি খেয়ে সালাতের
জন্য ঈদগাহ অভিমুখে গমন করে। কেউবা কিছু না খেয়েই সালাতের জন্য বের হয়ে যায়।
এটা সুন্নাত পরিপন্থী। বরং ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে বেজোড় সংখ্যক
খেজুর খেয়ে বের হওয়া সুন্নাত। যা ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও সুন্নাত এর একটি অংশ।
আনাস (রাঃ)হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সাঃ)ঈদুল ফিতরের দিন সকালে কয়েকটি
খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে গমন করতেন না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বেজোড় সংখ্যক
খেজুর খেতেন।
ইবনু আব্বাস(রাঃ)হতে বর্ণিত তিনি বলেন,ঈদুল ফিতরের দিন বাড়ী থেকে ঈদগাহের
উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া সুন্নাত। এমনকি একটা খেজুর হলেও। ইমাম
তিরমিযী(রহঃ)বলেন,বিদ্বানগণের একদল ঈদুল ফিতরের দিন কোন কিছু খেয়ে বের হওয়া
মুস্তাহাব বলেছেন। আর খেজুর খেয়ে বের হওয়া মুস্তাহাব। ঈদুল আযহার দিন সালাত
আদায় করে ফিরে না আসা পর্যন্ত কিছু খাবে না। ইবনু কুদামা (রহঃ)বলেন,ঈদুল ফিতরের
দিন প্রত্যুষে কিছু খাওয়া মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে কোন মতভিন্নতা আমরা অবগত
নই।
ঈদের দিনে তাকবীর পড়া
ঈদের দিনে আনন্দের পাশাপাশি তাকবীর পাঠ করা মুসলমানদের জন্য জরূরী বিষয়। ঈদুল
ফিতর সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,যাতে তোমরা গণনা পূর্ণ কর এবং তোমাদের হেদায়াত
দান করার জন্য তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা কর। আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।(সূরা
বাকারাহ ২/১৮৫)। ঈদুল আযহা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, আর তোমরা নির্দিষ্ট
কয়েকটি দিনে আল্লাহকে স্মরণ করবে।(বাক্বারাহ ২/২০৩)।
আর ঈদুল ফিতরে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকে ঈদের সালাত পর্যন্ত তাকবীর
পাঠ করতে হয়। ইবনু আবী শায়বা সহীহ সনদে যুহরী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি
বলেন,রাসূলুল্লাহ(সাঃ)ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হয়ে তাকবীর পড়তে
পড়তে ঈদগাহে আসতেন এবং সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকবীর পড়তেন। সালাত শেষ হলে তিনি
তাকবীর পড়া বন্ধ করতেন।
অন্য বর্ণনায় এসেছে,আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ)হতে বর্ণিত আছে,রাসূলুল্লাহ
(সাঃ)দুই ঈদের দিনে ফযল ইবনু আববাস,আব্দুল্লাহ ইবনু
আববাস,আববাস,আলী,জাফর,হাসান,হুসাইন,উসামা বিন যায়েদ,যায়েদ বিন হারেছাহ,আয়মান
ইবনু উম্মে আয়মানকে সাথে নিয়ে ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হতেন উচ্চঃস্বরে
তাহলীল ও তাকবীর বলতে বলতে। তখন তিনি কর্মকারদের রাস্তা ধরে ঈদগাহে পৌঁছাতেন
এবং সালাত শেষে মুচিদের রাস্তা ধরে বাড়ী পৌঁছতেন।
তাকবীর পাঠ করা
আল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু,ওয়াল্লা-হু আকবার,আল্লাহু
আকবার,ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ। অর্থ:আল্লাহ মহান,আল্লাহ মহান,আল্লাহ ছাড়া কোন
মাবূদ নেই। আল্লাহ মহান,আল্লাহ মহান, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য। অন্য
বর্ণনায় এসেছে,'আল্লাহু আকবার কাবীরা,আল্লাহু আকবার কাবীরা, আল্লাহু আকবার ওয়া
আজাল,আল্লাহু আকবার,ওয়ালিল্লাহিল হামদ'।
অনেক বিদ্বান পড়েছেন,'আল্লাহু আকবার কাবীরা,ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাছীরা,ওয়া
সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আছীলাহ'। অর্থ:আল্লাহ মহান,সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই
জন্য। সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। ইমাম শাফেঈ(রহঃ)এটাকে
সুন্দর বলেছেন।
তাকবীর পাঠ করতে করতে ঈদগাহে গমন করা
কিছু মানুষ চুপ-চাপ ঈদগাহে গমন করে। কেউবা গল্প করতে করতে গিয়ে ঈদের মাঠে
উপস্থিত হয়। তাকবীর পাঠ করে না। আর চুপচাপ বসে থেকেই সালাত আদায় করে। এটা ঠিক
নয়। বরং মুসলমানের জন্য কর্তব্য হলো বাড়ী থেকে বের হয়েই ঈদগাহে গমনের পথে
তাকবীর পাঠ করতে থাকবে এবং সালাত আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত উচ্চঃস্বরে তাকবীর পাঠ
করবে ইসলামের এই মহান নিদর্শন প্রচারের জন্য। এটাই ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও
সুন্নাত এর একটি অংশ।
আল্লাহ বলেন,এটাই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এটাতো
তার হৃদয়ের তাকওয়া সঞ্জাত।(সূরা হজ্জ ২২/৩২)। ইবনু আবী শায়বা সহিহ সনদে যুহরী
থেকে বর্ণনা করেন যে,নবী করীম (সাঃ)ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন এবং ঈদগাহে পৌঁছা
পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন। ইবনু আবী মূসা বলেন,মানুষ তাদের বাড়ি থেকে দু'ঈদের
সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে উচ্চঃস্বরে তাকবীর বলত। ইমাম আহমাদ (রহঃ)বলেন,'বাড়ী
থেকে বের হয়েই উচ্চঃস্বরে তাকবীর বলবে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত'।
ইবনু কুদামা (রহঃ)বলেন,এ বিষয়টি আলী,ইবনু ওমর,আবু উমামা,আবু রুহম এবং
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর অনেক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। এটা ওমর ইবনু আব্দুল
আযীয,আবান ইবনু ওছমান এবং আবু বকর ইবনু মুহাম্মাদেরও অভিমত। নাখঈ,সাঈদ ইবনু
জুবায়ের ও ইবনু আবী লাইলা উক্ত আমল করতেন। হাকাম,হাম্মাদ,মালেক,ইসহাক ও আবু
ছাওরও অনুরূপই বলেছেন।
নারীদের ঈদের সালাত
উম্মে আতিয়া(রাঃ)বলেন,যখন নবী করীম(সাঃ)নারীদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার
সালাতে বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন। উম্মু সালমা বলেন,আমরা বললাম হে আল্লাহর
রাসূল(সাঃ)যদি আমাদের মধ্যে কারো চাদর না থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বললেন,তার বোন
তাকে চাদর পরাবে। অত্র হাদীছ প্রমাণ বহন করে যে,মহিলা সাহাবীদের অভ্যাস ছিল
যে,তাঁরা বড় চাদর না পরে বাইরে বের হতেন না। চাদর না থাকলে বের হওয়া তাঁদের
পক্ষে সম্ভবও হতো না।
আর এজন্য তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর নিকট তাঁদের প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ
করলেন যখন তাদের ঈদের সালাতে বের হতে বলা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)অন্য
মুসলিম বোনের চাদর পরে ঈদগাহে গমন করতে বলে এ প্রশ্নের সমাধান দিলেন। কিন্তু
তাঁদেরকে চাদর ছাড়া বের হওয়ার অনুমতি দেননি, যদিও ঈদগাহে সালাত আদায়ের জন্য বের
হওয়া নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শরীআত সম্মত। অতএব যখন নারীদের চাদর পরিধান ব্যতীত
শরীআত সম্মত স্থানে যাবার অনুমতি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)দিলেন না, তখন চাদর পরিধান
ছাড়া শরীআত অননুমোদিত স্থানে যাওয়ার অনুমতি তিনি কি করে দিতে পারেন।
একই রাস্তা দিয়ে ফিরে না আসা
অধিকাংশ মানুষ যে রাস্তায় ঈদগাহে গমন করে ঐ রাস্তা দিয়েই আবার ফিরে আসে। এটা
সুন্নাতী পদ্ধতি নয়। বরং সুন্নাত হচ্ছে এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে গমন করা এবং অন্য
রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। জাবের (রাঃ)হতে বর্ণিত তিনি বলেন,নবী করীম (সাঃ)ঈদের
দিনে রাস্তা পরিবর্তন করতেন।
ঈদের সালাত আদায়ে অবহেলা না করা
অনেকে মনে করে ঈদের সালাত সুন্নাত। এ কারণে কোন কোন লোক ফজরের সালাত আদায় করেই
ঘুমিয়ে যায় বা অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকে এবং ঈদের সালাত আদায় করা থেকে বিরত
থাকে। এটা ঠিক নয়। বরং সঠিক কথা হচ্ছে ঈদের সালাত সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা। অবজ্ঞা
ও অবহেলাবশতঃ সালাত পরিত্যাগ করা উচিত নয়। কারণ ঈদের সালাত আদায়ের জন্য
রাসূল(সাঃ)নির্দেশ দিতেন।
উম্মু আতিয়া(রাঃ)বলেন,আমি আল্লাহর রাসূল(সাঃ)কে বলতে
শুনেছি,যুবতী,পর্দানশীন,ঋতুবতী মহিলারা বের হবে এবং ভাল কাজ ঈদের খুৎবা ও
মুমিনদের দোআতে শরীক হবে। ঋতুবতী মহিলারা ঈদগাহ হতে দূরে থাকবে।
হাফছা(রাঃ)বলেন,আমি জিজ্ঞেস করলাম ঋতুবতীও কি বের হবে?তিনি বললেন,সে কি আরাফাত
ও অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হয় না?অন্য হাদীসে এসেছে,তিনি(নবী করীম সাঃ) স্বীয়
কন্যা ও স্ত্রীগণকে দু'ঈদের জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন।
ঈদের রাতকে নফল ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট না করা
সারা বছর রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করা সুন্নাত। বিশেষত রমজান মাসের রাত্রিতে।
যেমনভাবে সহিহাইনে বর্ণিত হয়েছে,রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,যে ব্যক্তি রমজানে
ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রাত্রি জাগরণ করবে,তার সমস্ত ছগীরা গোনাহ ক্ষমা করে
দেয়া হবে। আর রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর পাওয়ার আশায় রাত্রি জাগরণ করা অতীব
জরূরী। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল
কদরে জাগরণ করে ইবাদত করবে,তার সমস্ত ছগীরা গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
এছাড়া ফজিলতের আশায় অন্য কোন রাত্রিকে শরিয়া দলীল ব্যতীত ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট
করা বিদআত। যেমন কিছু মানুষ ফজিলতের আশায় ঈদের রাত্রিকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট
করে। এ ব্যাপারে তিনটি যঈফ ও জাল হাদীস পাওয়া যায়। যথা :
(১)ওবাদাহ ইবনু ছামেত (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত্রিতে জাগরণ করবে(ইবাদত করবে),তার অন্তর মরবে না যেদিন
অন্তর সমূহ(অর্থাৎ সকল মানুষ)মারা যাবে। এ বর্ণনাটি মাওযূ বা জাল। এর সনদে ওমর
ইবনু হারূণ আল-বালখী রয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন ও ছালেহ জাযরাহ বলেন,সে মিথ্যুক।
এজন্য আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী(রহঃ) বলেন, বর্ণনাটি জাল।
(২)আবু উমামা (রাঃ)নবী করীম (সাঃ)হতে বর্ণনা করেন,তিনি বলেন,যে ব্যক্তি আল্লাহর
ওয়াস্তে সওয়াব লাভের আশায় দু’ঈদের রাত্রি জাগরণ করবে,তার অন্তর মরবে না,যেদিন
অন্তর সমূহ(অর্থাৎ সকল মানুষ)মারা যাবে। বর্ণনাটি অত্যন্ত দুর্বল(যঈফ)। এর সনদে
বাক্বিয়া ইবনুল ওয়ালীদ আছে,সে মুদাল্লাস রাবী,অথচ সে আনআন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছে।
এজন্য আলবানী বলেন,বর্ণনাটি অত্যন্ত যঈফ। ইরাকী বলেন,এর সনদ যঈফ। আল বুছীরী
বলেন,বাক্বিয়ার তাদলীস করার কারণে এ বর্ণনাটির সনদ যঈফ(দুর্বল)।
(৩)মুআয(রাঃ)হতে মারফূ সূত্রে বর্ণিত আছে,যে ব্যক্তি চারটি রাত্রি জাগরণ করবে,তার
জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। সেগুলো হলো তারবিয়ার রাত (৮ই যিলহজ্জ),আরাফার
রাত,ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের রাত। এ বর্ণনাটি মাওযূ বা জাল। এর সনদে আব্দুর রহীম
ইবনু যায়েদ আল উময়া রয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন বলেন,সে মিথ্যুক। এর সনদে সুওয়াইদ
ইবনু সাঈদ রয়েছে,সে যঈফ (রাবী)। ইবনুল জাওযী (রহঃ)বলেন,হাদীছটি সহীহ নয়। আলবানী
বলেন,এটি মাওযূ বা জাল।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে,ঈদের দিনের রাত্রিতে জাগরণের ফজিলত
সম্পর্কে কোন ছহীহ হাদীছ বর্ণিত নেই। যা ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও সুন্নাত এর
মধ্যে পড়ে না। এ ব্যাপারে উদ্ধৃত সকল হাদীছই যঈফ ও মওযূ,যা দ্বারা দলীল গ্রহণ
করা যায় না। আর উক্ত বর্ণনাগুলি দ্বারা ঈদের দিনের দু’রাত্রিতে ইবাদত করা
মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারেও দলিল গ্রহণ করা যায় না। সুতরাং অন্যান্য রাত্রির
চেয়ে ঈদের রাত্রিতে জাগরণের ব্যাপারে বিশেষ কোন ফজিলত ও গুরুত্ব নেই। যদি কারো
নিয়মিত রাত্রি জাগরণের অভ্যাস থাকে,সে এই রাত্রি জাগরণ করে নফল সালাত আদায় করলে
তার জন্য নেকী ও কল্যাণ রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি অধিক ফজিলত লাভ করার বিশ্বাস ও
ধারণায় এই দুই রাত্রি জাগরণ করে তাহলে সেটা ভুল ও বিদআতী আমল হবে।
বর্তমানে ঈদ উৎসব
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুই ঈদ। ঈদ শুধুমাত্র উৎসব নয় বরং ইবাদতও
বটে। কিন্তু বর্তমানে ঈদ যেভাবে উৎযাপন হচ্ছে তাতে এর ধর্মীয় গুরুত্ব কমে গিয়ে
নিছক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ঈদের দিন সালাত শেষ হতেই খুৎবা না শুনে একদল লোক
বের হয়ে চলে যায়। গ্রাম-গঞ্জে ঈদগাহের আশেপাশে খাবারের বিশাল মেলা বসে। বিকাল
হতে না হতেই পার্কগুলোতে নারী-পুরুষের সমাগম বাড়ে, অন্তত ৩-৪ দিন যাবৎ রাস্তায়
বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে পার্ক ও অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোতে চলে বেপর্দা
ঘোরাঘুরি,বাসা বাড়ীতে উচ্চস্বরে গান-বাজনা,সিনেমা হলগুলোতে ঈদ কেন্দ্রিক সিনেমা
দেখার হিড়িক।
গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবকরা পিকআপ ভাড়া করে উচ্চ শব্দে
গান বাজিয়ে বেহায়ার মত উদ্দাম নাচতে নাচতে এলাকা কাঁপিয়ে চলে যাচ্ছে। আরো এক ধাপ
এগিয়ে এ বছর ঈদুল ফিতরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত সুলতানী আমলের ঈদ মিছিলের
নামে চরম জাহেলিয়াত। গানের তালে তালে ব্যান্ড পার্টির ঢোল-তবলা,রঙিন সাজে সজ্জিত
ঘোড়ার গাড়ি আর বিভিন্ন ধরনের মূর্তির ছড়াছড়ি। ঈদ মিছিলের নামে বিজাতীয় সংস্কৃতির
সয়লাব দেখে প্রশ্ন জাগে-এগুলো কি আদৌ ইসলাম ও মুসলমানদের সংস্কৃতি? এগুলো
কোনভাবেই ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও সুন্নাত এর অংশ নয়।
মোহাম্মাদ(সাঃ)আমাদের এভাবে ঈদ উদযাপন করতে শিখিয়েছেন? আমরা কি আল্লাহর সন্তুষ্টি
অর্জনের জন্য ঈদ পালন করছি নাকি পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মোহে অন্ধ হয়ে গেছি? ঈদ কি
কেবল সামাজিক রীতিনীতির মত নিছক কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাকি ইবাদত? এই প্রশ্নের
উত্তর পেতে হলে আমাদের জানতে হবে বর্তমান সংস্কৃতি এবং ইসলামী সংস্কৃতির মৌলিক
পার্থক্য। জানতে হবে ঈদের প্রেক্ষাপট এবং রাসূল (সাঃ)এর জামানার ঈদ উদযাপন
সম্পর্কে।
ঈদ অবশ্যই ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। যে সংস্কৃতির উৎস হলো কুরআন ও সহীহ হাদীস।
সেজন্য এটি ইবাদত সাধারণ কোন সংস্কৃতি নয়। ঈদের মধ্যে ইবাদত,আনন্দ ও উৎসব সবই
নিহিত রয়েছে। এই সকল বৈশিষ্ট্য সমন্বয় করে রাসূল(সাঃ)যেভাবে ঈদ উদযাপন করেছেন
আমাদেরও সেভাবে উদযাপন করতে হবে। এটাই ইসলামী সংস্কৃতির মূল আদর্শ। যে ব্যক্তি
সওয়াবের নিয়তে ইসলামী শরীআতের সীমারেখার মধ্যে ঈদ উদযাপন করবে সে ঈদের দিন আনন্দ
উৎসবে থাকলেও আল্লাহর ইবাদতেই সময় কাটাবে। কেননা ঈদের চাঁদ দেখা,ঈদের দিন সকালে
গোসল করা,উত্তম পোষাক পরা,সুগন্ধি ব্যবহার করা,ঈদুল ফিতরে মিষ্টি জাতীয় কিছু
খাওয়া,ঈদুল আযহায় না খাওয়া,এক রাস্তায় যাওয়া এবং অন্য রাস্তায় ফিরে আসা,ঈদগাহে
সালাত আদায় করা,ঈদুল ফিতরের ফিতরা আদায় ও সালাত শেষে বিতরণ করা,ঈদের তাকবীর
পড়া,পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে'তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম'বলা।
ঈদুল আযহায় কুরবানী করা,গোশত ও চামড়ার অর্থ গরীব,মিসকীনদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া
ইত্যাদি সকল কিছু শুধুমাত্র সংস্কৃতি নয় বরং প্রত্যেকটিই ইবাদত। এগুলো
রাসূল(সাঃ)তাঁর ব্যক্তি জীবনে করে দেখিয়েছেন। এমনকি ঈদের দিন শারঈ এই কাজের ফাঁকে
তিনি হালাল বিনোদনও উপভোগ করেছেন। সহীহ বুখারীতে এসেছে,ঈদের দিন সুদানীরা বর্শা ও
ঢাল নিয়ে খেলেছেন আর রাসূল (সাঃ)ও আয়েশা (রাঃ)তা উপভোগ করেছেন।(বুখারী হা/৯৫০)।
এটাও আমাদের সংস্কৃতি। এ হাদীছ থেকে দলিল নিয়ে ওলামায়ে কেরাম হালাল খেলাধূলা এবং
শরিয়াত গর্হিত নয় এমন বিনোদনকে জায়েয বলেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন রাসূল(সাঃ)মিষ্টি
জাতীয় কিছু খেতেন সম্ভবত এই হাদীছটির উপর ভিত্তি করে গ্রাম-গঞ্জে এক সময় কলে তৈরী
সেমাই বানানোর প্রচলন ছিল।
গ্রামের মহিলারা ঈদের এক সপ্তাহ পূর্বেই সেমাই তৈরী করতেন এবং ঈদের দিন সকালে
পরিবারের জন্য রান্না করে পরিবেশন করতেন। সেজন্য ঈদুল ফিতরকে সেমাই ঈদও বলা হয়।
ঈদে উত্তম পোশাক পরা ইবাদত,কিন্তু নতুন পোশাক পরা শর্ত নয়। অথচ ঈদে আমরা
কম-বেশী সবাই নতুন পোশাক পরার চেষ্টা করি। ঈদুল আযহায় কুরবানীর জন্য পশু ক্রয়
করার নির্দেশ হাদীছে এসেছে। সেজন্য পশুর হাট বসানো হয়। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা
ঈদের দিন বিশেষ করে সালামী নিতে আসে আর আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাদের
সাধ্যমত সালামী দেই। এগুলো সবই ইসলামী সংস্কৃতির অংশ ইসলাম গর্হিত কোন কাজ নয়।
শেষ কথা
ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা করে পরিশেষে বলা যায় যে ঈদের
দিনের যেসব সুন্নাতী আমল সহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,তা পালন করা প্রত্যেক
মুসলমানের জন্য জরূরী।
অবহেলা,অবজ্ঞা বা উদাসীনতায় এসব সুন্নাত ত্যাগ করলে গোনাহগার হতে হবে। ঈদের সালাত
আদায়ের সাথে সাথে ঐসব সুন্নাত পালনে আমরা সবাই সচেষ্ট হই। আল্লাহ তাআলা আমাদের
তাওফীক দান করুন আমীন।


AymansGlobal এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url