SEO কি? SEO কেন শিখবেন
SEO(এসইও)বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো
ডিজিটাল মার্কেটিং
এর একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটির মাধ্যমে যেকোন ওয়েব পেজ শত শত কিওয়ার্ডের
জন্যে সার্চ ইঞ্জিনে জায়গা নিয়ে থাকে। জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে প্রতি সেকেন্ডে
গড়ে লক্ষাধিকবার সার্চ করা হয়। দিনের হিসেব করলে সেটি প্রায় বিলিয়ন। মানুষ তার
প্রয়োজনীয় তথ্য,সার্ভিস ও কেনা-কাঁটা করতে গুগল সার্চ ব্যবহার করে। আর এ জন্য়
সবাই চায় মানুষের করা ওই সার্চ রেজাল্টের প্রথম পৃষ্ঠায় যেন তার ওয়েবসাইটটি থাকে।
আর এখানেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর উৎপত্তি। প্রথমে SEO এর সংজ্ঞা এবং সার্চ
ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে এগুলি সম্পর্কে জানলে এসইও কি তা বুঝতে সহজ হবে। এসইও হল
এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটের একটি পেজকে একটি সুনির্দিষ্ট কিওয়ার্ড
এর ভিত্তিতে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পৃষ্ঠায় নিয়ে আসা হয়। অর্থাৎ এসইও হল যার
মাধ্যমে একটি ওয়েবপেজকে কোন বিশেষ কীওয়ার্ডে প্রথম পৃষ্ঠায় আনা।
SEO কি
SEO কি? SEO কেন শিখবেন? SEO (এসইও)পূর্ণরুপ হলো Search Engine Optimization. এর
সাহায্যে ওয়েবসাইটের সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক ট্র্যাফিক বা ভিজিটর বৃদ্ধি করা
হয়। সহজ কথায় আমরা যখন গুগল কিংবা অন্য যেকোন সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু লিখে সার্চ
দিই তখন গুগল কিংবা ঐ সার্চ ইঞ্জিন কতগুলো রেজাল্ট দেখায়। সেখান থেকে আমরা আমাদের
পছন্দমত লিংকে ক্লিক করে কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে ভিজিট করে আমাদের দরকারী তথ্য খুঁজে
পাই। আর যেই কারণে গুগল কিংবা কোন সার্চ ইঞ্জিন ওই রেজাল্টগুলো দেখায় সেই কারণ
কিংবা পদ্ধতিকে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।
এটি গ্লোবাল ও বাংলাদেশে চাকুরী বা ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার হিসেবে এসইওর বেশ
চাহিদাও প্রচুর। তাই এসইও শেখার জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে।
এছাড়াও এটি এমন একটি স্কিল যা শিখতে পারলে নিজের অনলাইন বিজনেস এর মার্কেটিং
করা ও ব্লগিং করে আয় করা যায় (অ্যাডসেন্স ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে)। আমারা
এসইও সম্পর্কে শুনি কিন্তু অনেকেই জানিনা এই সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন কিভাবে
কাজ করে। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কিভাবে সহজেই SEO শেখা যায়।
SEO কেন করতে হয়
SEO এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন হতে ওয়েবসাইটের ভিজিটরের সংখ্যা
বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ডে ওয়েবসাইটটিকে সার্চ রেজাল্টের প্রথম
পৃষ্ঠায় নিয়ে আসা। স্বাভাবিকভাবে আমাদের ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে RANK
করানোর জন্যে এসইও করি। এসইও করার মাধ্যমে আমরা সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজের
প্রথমে থাকার চেষ্টা করি। কারণ মানুষ যখন কোনকিছু নিয়ে সার্চ দেয় তখন রেজাল্ট
পেজের প্রথমে যারা থাকে তাদের লিংকেই ক্লিক করে। যে কোন ওয়েবসাইটে এসইও করার
ফলে সার্চ ইঞ্জিনে সেই ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক ধারনা
পাওয়া যায়। ফলে ওয়েবসাইটটিতে ভিজিটর এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সুতরাং কোন
ওয়েবসাইট থেকে বেশি আয় করতে হলে অবশ্যই এসইও এর ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণস্বরুপ,আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি আর্টিক্যাল লিখেন। সেখানে
একটি পোস্ট লিখলেন "প্রতি সপ্তাহে 4000 টাকা আয় করার কার্যকরী উপায়"। এখন আপনি
অবশ্যই চাইবেন যে গুগলে কেউ যখন "প্রতি সপ্তাহে 4000 টাকা ইনকাম করার উপায়" লিখে সার্চ দিবে তখন যেন গুগলে
আপনার ওয়েবসাইটকেই প্রথমে দেখায়। তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকে ক্রেতারা এসে
আপনার পোস্ট পড়ে জানতে পারবে। এখন এই যে পুরো প্রক্রিয়া যেটার মাধ্যমে আপনার
ওয়েবসাইটকে গুগল “প্রতি সপ্তাহে 4000 টাকা আয় করার কার্যকরী উপায়” এই
কিওয়ার্ডের জন্যে দেখাবে সেটাই আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভাষায় এসইও বলে থাকি।
সুতরাং অনলাইন মার্কেট থেকে আয় করতে হলে বা ওয়েবসাইটকে জনপ্রিয় করতে হলে
SEO(এসইও)এর কোনো বিকল্প নেই।
SEO এর বিভিন্ন টাইপ সম্পর্কে
অন-পেজ SEO:
এই SEO এর বিভিন্ন টাইপ রয়েছে। যেমন কন্টেন্ট
অপ্টিমাইজেশন, ইমেজ এসইও, ইন্টারনাল লিংক ইত্যাদি কাজগুলো অনপেজ এসইওর অন্তর্গত।
অনপেজ এসইও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটার মাধ্যমে কিওয়ার্ড এর জন্য কোন একটি পেজের
কনটেন্ট অপ্টিমাইজেশন করে। নিশ্চিত করা যায় যে কোন পেজ থেকে কোন কিওয়ার্ডে
র্যাঙ্ক করবে। অনপেজ এসইও মূলত সাইটের মধ্যে করা হয় যেমন কোন একটা টপিকের ওপর
একটি আর্টিকেল লিখে সেই আর্টিকেলটিকে এসইও এর বিভিন্ন বিষয় প্রয়োগ করে প্রস্তুত
করা হয়।
যেমন,ইউআরএল,টাইটেল,এইচ ১,সাব হেডিং,বডি কন্টেন্ট,ইন্টারনাল লিংকিং,মেটা
টাইটেল,মেটা ডেস্ক্রিপশন ইত্যাদি। এই অপটিমাইজেশনগুলো যত দক্ষতার সাথে করা যায়
ওয়েবসাইটের জন্যে তত ভাল RANKING পাওয়া যায়। এছাড়া ইকমার্স ওয়েবসাইটে বিভিন্ন
প্রোডাক্ট পেজ অপটিমাইজেশন করতে হয় যাতে ওই প্রোডাক্টটি সার্চ ইঞ্জিনে RANK
করতে পারে। এক্ষেত্রেও ওই প্রোডাক্ট পেজের টাইটেল,প্রোডাক্টের
টাইটেল,প্রোডাক্টের ডেস্ক্রিপশন,মেটা টাইটেল,মেটা ডেসক্রিপশন ইত্যাদি বিষয়গুলো
খুবই ভালোভাবে করতে হয়। যা 'SEO কি? SEO কেন শিখবেন' এই প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
অফ-পেজ SEO:
ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পৃষ্ঠায় আনতে অফ-পেজ এসইও করা জরুরী। কোন ওয়েবসাইকে RANK
করাতে ব্যাকলিংক,কন্টেন্ট মার্কেটিং,সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদির মতো যে
কাজ করা হয় সেগুলোকে অফ পেজ এসইও বলে। অফ-পেজ এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন
অপটিমাইজেশনের জন্য সাইটের বাইরে থেকে প্রয়োগ করা হয়। যেমন সোশ্যাল শেয়ার,লিংক
বিল্ডিং,ব্যাক লিংক বিল্ডিং ইত্যাদি। কোন ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে ভিজিটর হয়ে এসে
কোন পেজ পড়ে আর সেটাকে অন্য জায়গায় মেনশন করে তাহলে বুঝে নিতে হবে একটি ব্যাক
লিংক তৈরি হয়ে গেল। অর্থাৎ ওয়েবসাইটের লিংক বা ইউআরএল অন্য কোন ওয়েবসাইটে শেয়ার
করার মানেই হচ্ছে ব্যাকলিংক বিল্ডিং।
হোয়াইট হ্যাট SEO:
হোয়াইট হ্যাট এসইও হচ্ছে 'SEO কি? SEO কেন শিখবেন' প্রবন্ধের গুরুত্তপূর্ণ একটি পয়েন্ট বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সেই সব পদ্ধতি যেগুলো
সার্চ ইঞ্জিনের নির্দেশনা এবং নিয়ম অনুসরণ করে করা হয়। আর এই পদ্ধতিতে কাজ করলে
স্বাভাবিকভাবে ভাল RANKING পাওয়া যায়। যদি সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মনীতি মেনে
ওয়েবসাইটটিকে অপটিমাইজ করা হয় তাহলে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভালো ট্রাফিক বা ভিজিটর
পাওয়া যায়। হোয়াইট হ্যাট এসইও হলো সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটের
র্যাংক বৃদ্ধি করা। এটি সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম অনুসরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ
হয়। অতএব মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি করা,ব্যাকলিংক সংগ্রহ এবং সাইটের লোডিং স্পিড
উন্নত করা।
ব্ল্যাক হ্যাট SEO:
সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম ভঙ্গ করে অসাধু পদ্ধতিতে একটি ওয়েবসাইটের র্যাংক বৃদ্ধি
করা হয় তখন সেটিকে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বলে। ব্ল্যাক হ্যাট এসইও মূলত সার্চ
ইঞ্জিনের নিয়মনীতি ভঙ্গ করে করা হয়। সার্চ ইঞ্জিনে তাড়াতাড়ি RANK করার জন্যে
অনেকেই কৃত্রিম ভাবে লিংক বিল্ডিং করে। এটি স্বল্পমেয়াদে ভালো ফল দেয় কিন্তু
দীর্ঘমেয়াদে ওয়েবসাইটকে শাস্তির মুখোমুখি পড়তে হয়। তবে যদি সার্চ ইঞ্জিন
কোনভাবে এইসব লিংকগুলোর ফুটপ্রিন্ট ধরে ফেলে তাহলে ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিন
বাতিল করে দিবে। আর সার্চ ইঞ্জিনের প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত যা খুব সহজেই এই
ধরনের ওয়েবসাইটগুলোকে খুব সহজেই বাতিল করে দেয়। আর একবার তা হলে ওয়েবসাইটটিকে
সার্চ ইঞ্জিনে পুনরায় RANK করানো খুবই কঠিন হয়ে যায় অনেকক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়
না।
গ্রে হ্যাট SEO:
এটা এমন কিছু কৌশল যা হোয়াইট হ্যাট এবং ব্ল্যাক হ্যাট এসইও-এর মাঝামাঝি
অবস্থানে থাকে। এতে সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্কিং উন্নত করতে কিছু ঝুঁকি নিয়ে এমন
পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যা সরাসরি Google-এর নির্দেশিকা লঙ্ঘন না করলেও পুরোপুরী
বৈধ বা নিরাপদ নয়। যেমন মানসম্মত ব্যাকলিঙ্ক কেনা বা লিঙ্ক এক্সচেঞ্জ করা।
সার্চ ইঞ্জিনের কিছু গাইডলাইন ফাঁকি দিয়ে যদি এসইও করা হয় তবে তা হবে গ্রে
হ্যাট এসইও। যেমন গুগল প্রায়ই এর অ্যালগোরিদম চেঞ্জ করে এসব চেঞ্জের সাথে
পরিচিত হয়ে প্রতিটি অ্যালগোরিদম থেকে গ্যাপ করে এসইও করাই হচ্ছে গ্রে হ্যাট
এসইওর কাজ। খুব এক্সপার্ট না হলে কখনোই গ্রে হ্যাট এসইও করতে যাওয়া উচিত হবে
না। কারন গুগুল যদি জানতে পেরে ওয়েবসাইটকে ব্লক করে দেয় তাহলে ওয়েবসাইটের
মালিক বিশাল লসের সম্মুখীন হবে।
পেইড SEO:
পেইড এসইও মানে টাকা খরচ করে সার্চ রেজাল্টে বিজ্ঞাপন দেখানো যেমন Google
Ads-যা দ্রুত ফলাফল দেয় কিন্তু বাজেট শেষ হলে বন্ধ হয়ে যায়। সার্চ ইঞ্জিনে
বিজ্ঞাপন কিনে নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডের জন্য ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের একদম
উপরে দেখানো হয়। তাৎক্ষণিক ট্রাফিক ও ভিজিটর পাওয়া যায়। সুনির্দিষ্ট টার্গেটিং
করা যায় এবং দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। আবার বাজেট শেষ হয়ে গেলে বা বিজ্ঞাপন বন্ধ
করলে ট্রাফিকও বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রতি ক্লিকের জন্য টাকা দিতে হয়।
অর্গানিক SEO:
অর্গানিক এসইও হলো ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করে প্রাকৃতিক উপায়ে সার্চ র্যাঙ্কিংয়ে
উপরে আনা যা সময়সাপেক্ষ হলেও দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রতিটি ক্লিক বিনামূল্যে আসে। যা 'SEO কি? SEO কেন শিখবেন' এই আর্টিকেলের গুরত্তপূর্ণ পয়েন্ট। এতে
মূলত ভালো কনটেন্ট ও টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশনে কাজ করতে হয়। ওয়েবসাইটকে উন্নত
মানের কনটেন্ট, সঠিক কীওয়ার্ড ব্যবহার এবং টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে
সার্চ ইঞ্জিনের ভালো ফলাফলে উপরে আনা হয়। দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই ট্রাফিক আসে।
ফলাফল পেতে সময় লাগে তবে একবার র্যাঙ্ক করলে দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল পাওয়া যায় এবং
বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।
লোকাল SEO:
লোকাল এসইও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার গ্রাহকদের টার্গেট করে। লোকাল এসইও হল এমন
একটি কৌশল যা একটি ব্যবসাকে স্থানীয় সার্চ রেজাল্টে উপরে তুলে আনে। যখন কেউ
স্থানীয় এলাকার জন্য কিছু সার্চ করে যেমন “Best Restaurant In Rajshahi” তখন যদি
এই ব্যবসার সাইট সেই সার্চের প্রথম পাতায় উঠে আসে তাহলে সহজেই নতুন গ্রাহকরা
আকৃষ্ট হবে। এটি মূলত গুগল মাই বিজনেস,স্থানীয় কীওয়ার্ড রিভিউ এবং অন্যান্য
বিষয়ের মাধ্যমে কাজ করে । স্থানীয় সার্চে ভালো র্যাঙ্কিং পাওয়া মানে ব্যবসায়
অধিক স্থানীয় ট্রাফিক পাবে। বিশেষ করে যেসব গ্রাহক সরাসরি এলাকার কাছাকাছি থাকে
তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ব্যবসার বিক্রয় উল্লেখযোগ্য হারে
বৃদ্ধি পায়।
গ্লোবাল SEO:
গ্লোবাল এসইও হলো একটি বিশাল আন্তর্জাতিক ভিজিটর লক্ষ্য করে ওয়েবসাইটকে
অপ্টিমাইজ করা। যা মূলত ই-কমার্স বা ডিজিটাল পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। গ্লোবাল
এসইও হলো একটি ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন দেশ ও ভাষার ব্যবহারকারীদের জন্য সার্চ
ইঞ্জিনগুলোতে অপটিমাইজ করা। যার মাধ্যমে একটি ব্যবসা বিশ্বব্যাপী নতুন বাজার ধরতে
ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ট্র্যাফিক ও আয় বৃদ্ধি করতে
পারে। এর মূল লক্ষ্য হলো সঠিক ভাষা,সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অঞ্চল অনুযায়ী সার্চ
ইঞ্জিনকে সঠিক কনটেন্ট পরিবেশন করা।
টেকনিক্যাল SEO:
টেকনিক্যাল এসইও এর জন্যে সর্বপ্রথম ওয়েবপেজের লোডিং স্পিডকে অপ্টিমাইজ করতে
হবে। ওয়েবসাইটের গতি কম হলে র্যঙ্কিংও খারাপ হয়। ইমেজ অপ্টিমাইজেশন সাইটের গতি
বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তবে বড় সাইজের ছবি সাইটের গতি কমিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে
কম্প্রেশন টুল দিয়ে ছবিকে কম্প্রেস করে ওয়েবপেজে আপলোড করতে হবে। মোবাইল
ফ্রেন্ডলি সাইটগুলো এসইওর জন্য ভালো। তাই এসইও করার সময় সাইটটিকে মোবাইল বান্ধব
করে তুলতে হবে। ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ওয়েব
লিঙ্কে HTTPS ব্যবহার করার অর্থ হচ্ছে ওয়েবসাইটটি সুরক্ষিত আছে। আর ভিজিটররা এটা
দেখে বুঝতে পারে যে তাদের তথ্য হ্যাকার এবং অন্যান্য ম্যালওয়্যার ভাইরাস থেকে
নিরাপদ থাকবে। এবং সার্চ ইঞ্জিন সহজে সাইট ক্রল ও ইনডেক্স করতে পারে এমন
টেকনিক্যাল দিকগুলো ঠিক রাখা।
SEO কেন শিখবেন
SEO কি? SEO কেন শিখবেন? মনে করুন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে অনেক ভাল
ভাল পণ্য কিংবা সেবা প্রদান করা হয়। বর্তমান সময় অনুযায়ী যদি ও ব্যবসাকে
অনলাইনে সুন্দরভাবে পরিবেশন করতে না পারা যায় তাহলে ক্রেতাগণ কোনভাবেই পণ্য বা
সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে না। এখন এই এসইও শিখে যদি ওয়েবসাইটিকে ভালভাবে সার্চ
ইঞ্জিনে RANKING এর জন্যে অপটিমাইজ করা যায় তাহলে যেকোন পণ্য বা সেবার বিক্রি
অনেকাংশে বেড়ে যাবে। একজন ডিজিটাল মার্কেটার কেন এসইও শিখবে? যদি কেউ ডিজিটাল
মার্কেটার হতে চায় কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা বিক্রি করতে চায় তাহলে তাকে
অবশ্যই এসইও শিখতে হবে।
এসইও দক্ষতা দিয়ে অন্য কোন ব্যক্তির ওয়েবসাইটকে RANK করাতে হয় তাহলে আগে এসইও
শিখতে হবে এবং সেটা খুবই ভাল করেই শিখতে হবে। তা নাহলে কোনভাবেই কাস্টমারকে ভাল
সেবা প্রদান করা যাবে না। কেননা কাস্টমার সব সময়ই চাইবে তার ওয়েবসাইট সার্চ
ইঞ্জিনে ভাল RANK করুক আর তার ওয়েবসাইটে অনেক অনেক ট্রাফিক আসুক। কারণ ভিজিটর
যত বেশি হবে পরিচিতি আর প্রসারও তত বেশি হবে। আর এই প্রসারের মাধ্যমে তার
পণ্যের বিক্রিও অনেক বেড়ে যাবে। আর পণ্যের বেশি বিক্রি মানেই হচ্ছে বেশি মুনাফা
অর্জন করা। আর একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে যদি এই সেবাটি ভালভাবে দিতে পারা
যায় তাহলে ক্রেতারাও ভাল অর্থ প্রদান করবে সেবার মূল্য হিসাবে। অনেক ডিজিটাল
মার্কেটার আছে যারা শুধু ক্লায়েন্ট সার্ভিস দিয়ে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়
করছে এই বর্তমান সময়ে। একজন ব্যবসায়ীর নজর থেকে এসইও আর একজন ডিজিটাল
মার্কেটারের নজরে এসইও সম্পুর্ণ ভিন্ন হতে পারে। কারণ তাদের দুইজনের উদ্দেশ্য
ভিন্ন। কিন্তু যদি সঠিকভাবে (SEO কি? SEO কেন শিখবেন) এসইও শিখতে পারা যায় তাহলে
অবশ্যই এই দক্ষতা দিয়ে নিজ লক্ষ অর্জন করা সম্ভব।
ডিজিটাল মার্কেটিংএ(SEO)
একজন ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রসারের জন্য যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং করা প্রয়োজন তেমনি
একজন ডিজিটাল মার্কেটারের SEO এর প্রতিটি ধাপ ভালোভাবে শিখে স্কিল অর্জন করতে
হবে। এসইও হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন যেমন
Google-এর সার্চ ফলাফলের তালিকায় উপরের দিকে আনা হয়। যাতে বিনামূল্যে
অর্গানিক ট্র্যাফিক বা ভিজিটর বাড়ে। যার ফলে ওয়েবসাইটের দৃশ্যমান ও
জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। এটি মূলত কীওয়ার্ড রিসার্চ,মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি
এবং প্রযুক্তিগত অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে করা হয়।
যা ব্যবহারকারীদের কাছে সাইটকে আরও প্রাসঙ্গিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। অনেক
ডিজিটাল মার্কেটার আছে যারা বর্তমানে শুধু ক্লায়েন্ট সার্ভিস দিয়ে প্রতিমাসে
লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। এসইও এর মূল লক্ষ্য হলো সার্চ রেজাল্টে প্রথম দিকে আসা
এবং অর্গানিক ট্র্যাফিক বৃদ্ধি করা। SEO কি? SEO কেন শিখবেন এবং কত পদ্ধতিতে SEO
করা যায় তা উপরে বিস্তারিত আছে। তারপরও যেমন কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন। মানুষ যা
লিখে সার্চ করে সেই কীওয়ার্ডগুলো ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা। অতএব একজন ডিজিটাল
মার্কেটার হিসেবে SEO এর প্রতিটি ধাপ ভালোভাবে শিখে
স্কিল অর্জন করতে হবে।
সার্চ ইঞ্জিন কি ও কীভাবে কাজ করে
সার্চ ইঞ্জিন হল একটি সফটওয়ার বা এপ্লিকেশন যা
ব্যবহারকারীদের অনলাইনে তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। গুগল হলো বর্তমান সময়ের
সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। গুগল এর সার্চ বক্সে কিছু লিখে সার্চ দিলে
চোখের পলকে যে কোন বিষয়ে হাজার হাজার তথ্য চলে আসবে। গুগল ছাড়াও আরো কিছু
সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে যেমন-Bing,Ask,Yahoo,Yandex ইত্যাদি। সার্চ ইঞ্জিন যেভাবে
কাজ করে তাহলো সার্চ ইঞ্জিনে সবচেয়ে ভালো ফলাফল দেখানোর জন্যে প্রতিটি সার্চ
ইঞ্জিনের নিজস্ব কিছু ফর্মুলা থাকে যেগুলোকে অ্যালগরিদম বলে। কোন কিওয়ার্ড এর
জন্য সার্চ রেজাল্টে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট কেমন হবে ওয়েবসাইটের ranking কি হবে
এই সিদ্ধান্তগুলো অ্যালগরিদম এর উপর নির্ভর করে। সুতরাং সার্চ ইঞ্জিন এর প্রধান
কাজ হলো ব্যবহারকারী যে কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে তার সঠিক তথ্য প্রদান করা।
সাধারণত ৩ টি প্রক্রিয়ায় এ কাজটি করা হয়। যথাঃ Crawling,Indexing এবং Ranking
Crawling হলো এমন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট এর সম্পর্কে তথ্য
সংগ্রহ করা যায়। Crawling এর মাধ্যমে একটি সার্চ ইঞ্জিন স্পাইডার বা বট একটি
ওয়েবসাইট ক্রল করে প্রতিটি পৃষ্ঠার তথ্য সংগ্রহ করে। এর সাহায্যে ওয়েবসাইটের
বিভিন্ন তথ্য যেমন টাইটেল,h1 ট্যাগ,ছবি,কীওয়ার্ড এবং লিঙ্ক ইত্যাদ ছাড়াও নতুন
বা আপডেট করা ওয়েব কনটেন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
Indexing হলো সার্চ ইঞ্জিন এর স্ক্যান করা ওয়েবসাইট গুলোর সম্পূর্ণ তথ্যগুলোকে
ডাটাবেজ এর মধ্যে জমা রাখাকে Indexing বলে। এর ফলে ব্যবহারকারী সার্চ ইঞ্জিনে
সার্চ করার সাথে সাথে ডাটাবেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেখাতে পায়। সার্চ ইঞ্জিন
গুলো ইন্টারনেটের সকল ওয়েবসাইট এর তথ্য crawl ও index করে রাখে।
Ranking হলো সার্চ ইঞ্জিন এর তৃতীয় এবং শেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ওয়েবসাইট
Ranking করা হয়। যেই ওয়েবসাইট এর Ranking যত ভালো হবে সেই কন্টেন্টটি সার্চ
রেজাল্টের সবার উপরে দেখাবে। আবার Ranking ভালো না হলে ওয়েবসাইটটিকে প্রথম
পৃষ্ঠায় দেখাবে না। সুতরাং সার্চ রেজাল্ট এ কোন ওয়েবসাইটটি আগে থাকবে এবং
কোনটি নিচে থাকবে সেটা Ranking মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হয়।
SEO পারফরম্যান্স পরিমাপ করা
ওয়েবসাইটে এসইও করার পর ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য নিয়মিত পারফরম্যান্স ট্র্যাক
করতে হয়। এসইও এর সফললতা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ ওয়েবসাইটের
ট্রাফিক এর পরিমাণ কেমন,কিওয়ার্ড গুলোর র্যাঙ্ক বা পজিশন কত বা কেমন,
ভিজিটররা পেজটিতে গড়ে কত সময় ব্যয় করছে,ব্যাকলিঙ্কগুলো ঠিকমত কাজ করছে কিনা
এবং সাইটটিতে গুগল কতটি পেজ ইন্ডেক্স করেছে। কিছু জনপ্রিয় এসইও টুলস আছে
যেগুলোর সাহায্যে খুব সহজেই এসইও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা যায়। কিছু
উল্লেখযোগ্য এসইও টুলসের মাঝে Google Analytics, Google Search Console,
Ubersuggest, Ahrefs, Semrush ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়।
শেষ কথা
SEO কি? SEO কেন শিখবেন এই বিষয়ে পরিশেষে বলা যায় যে এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে
পড়লে SEO কি আর SEO এর প্রয়োজনীয়তা কি এই সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যাবে।
সহজভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে,বর্তমানে কিভাবে মানুষ ইন্টারনেটে নিজেকে
জায়গা করে নিতে পারে। কারণ অনলাইনে সবকিছুই পাওয়া যায় আর এই খুঁজে পাওয়ার জন্যে
সার্চ ইঞ্জিন নামের একটি অনলাইন মেশিন ব্যবহার করা হয়।
আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম সারিতে দেখতে চান তবে আপনার
টার্গেটেড কিওয়ার্ডের জন্যে আপনার ওয়েবসাইটের পেজকে অপটিমাইজ করতে হবে। আর আপনি
যদি ভালোভাবে এসইও শিখতে পারেন তাহলে আপনি এই জগতে অনেক দূর যেতে পারবেন।


AymansGlobal এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url