জিমেইল সিকিউরিটি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বর্তমানে ডিজিটাল যুগে ইমেইল শুধু বার্তা পাঠানোর মাধ্যম নয়, এটি আমাদের
ব্যাংক, সোশ্যাল মিডিয়া, অফিসের ডেটা এবং ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানের একটি
শক্তিশালী মাধ্যম। অতএব ডিজিটাল যুগে জিমেইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক্তি
বিষয়।
ডিজিটাল যুগে সাইবার হামলা,ফিশিং ইমেইল,একাউন্ট হ্যাকিং এবং ডেটা চুরির ঝুঁকি
নিয়মিত বাড়ছে।আর সেই সঙ্গে জিমেইল সিকিউরিটির ফিচারগুলো সম্পর্কে জানাটা
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জিমেইলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা
সেটিংস,ব্যবহারকারীদের করণীয় এবং অ্যাকাউন্টকে আরোও সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী
উপায় নিয়ে কিছু তথ্য জানবো।
জিমেইল সিকিউরিটির প্রত্যেকটি ধাপ নিম্নে আলোচনা করা হলো:-
- দুই ধাপ যাচাইকরণ(Two Step Verification)চালু করা
- শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা
- পাসওয়ার্ড মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করা
- অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভিটি নিয়মিত চেক করা
- ফিশিং ইমেইলের ব্যাপারে সতর্ক থাকা
- সিকিউরিটি চেকআপ ব্যবহার করা
- রিকভারি অপশন আপডেট রাখা
- সন্দেহজনক কোন লিংকে ক্লিক না করা
- কোন অ্যাপসগুলো এক্সেস পাচ্ছে তা দেখা
- অপরিচিত ডিভাইস থেকে এক্সেস হলে রিভিউ করা
- পাসওয়ার্ড এ Symbol,সংখ্যা,ছোট-বড় বর্ণ ব্যবহার করা
- জিমেইল অ্যাপস আপডেট রাখা
- শেষ কথা
দুই ধাপ যাচাইকরণ(Two Step Verification)চালু করা
Two-Step Verification হলো এমন একটি নিরাপত্তা প্রক্রিয়া যেখানে গুগল একাউন্তে
লগইন করার সময় দুটি স্তরের যাচাই করা লাগে। যেমনঃ ফোনে আসা OTP কোড, গুগল
Prompt, অথেনটিকেটর অ্যাপ, ব্যাকআপ কোড, সিকিউরিটি KEY ইত্যাদি। দ্বিতীয় ধাপের
কোডটি সঠিক হলে তবেই আপনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন।
এতে যদি কোনো হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জেনেও যায়, তবুও সে আপনার
অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ তার কাছে আপনার ফোন বা
প্রমাণীকরণকারী অ্যাপের অ্যাক্সেস থাকবেনা।এটি আপনার ব্যক্তিগত ডেটা এবং
অ্যাকাউন্টকে অনুমোদনহীন অ্যাক্সেস থেকে রক্ষা করবে।
শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা
জিমেইল সিকিউরিটির জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নির্বাচনের আগে আমাদের জানতে হবে
কোন ধরনের পাসওয়ার্ড গুলো দুর্বল। নিজের কোন তথ্য পাসওয়ার্ড হিসাবে দিলে
আমাদের অ্যাকাউন্ট ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ এইক্ষেত্রে অসাধু
ব্যক্তিরা আপনার অ্যাকাউন্টের ক্ষতি করার জন্য প্রথমে আপনার ইনফরমেশন কালেক্ট
করে ঐ গুলো দিয়ে নিজের মতো পাসওয়ার্ড তৈরী করতে চেষ্টা করবে। এখন ভাবুন এর
মাঝে যদি আপনার কোন তথ্য পাসওয়ার্ড হিসাবে থাকে তাহলে কি হবে?
নিজের নাম,পরিবারের কারো নাম,মোবাইল নাম্বার,জন্ম স্থান,জন্ম তারিখ-মোটকথায়
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরী করতে হলে আপনার নিজের তথ্য গুলো পাসওয়ার্ড হিসেবে
ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যথা সম্ভব ভিন্ন ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার
করার চেষ্টা করুন যাতে কেউ অনুমান করতে না পারে।
পাসওয়ার্ড মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করা
একই পাসওয়ার্ড বেশিদিন না রাখা। পাসওয়ার্ড মাঝেমধ্যে পরিবর্তন করা অত্তান্ত
জরুরি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন-প্রতি ৯০ দিন বা তিন মাস পর পর অবশ্যই
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। জিমেইল সিকিউরিটির পাশাপাশি অনলাইনের সব
অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডও যত বেশি পরিবর্তন করবেন,তত নিরাপদ থাকবেন।
এমন পরিস্থিতিও আসতে পারে যেখানে অবিলম্বে আপনার জিমেইলের পাসওয়ার্ড
পরিবর্তন করা উচিত। বিশেষ করে যদি কোনও সাইবার অপরাধীর আপনার অ্যাকাউন্টে
অ্যাক্সেস থাকে বা অপরিচিত ডিভাইসে লগইন করা আছে এরকম সন্দেহ হলে অবশ্যই
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে।
শেষ কথা
জিমেইল সিকিউরিটির জন্য মোবাইল অথবা কম্পিউটারে জিমাইলে লগইন করে প্রতিটি
ধাপ আপনি চেক করতে পারবেন। জিমেইল প্রোফাইলে ক্লিক করলে (manage your google account)
এ গিয়ে সকল সেটিং অপশন পাবেন। ধাপে ধাপে সবগুলো চেক করতে হবে,ঠিক আছে
কিনা। উক্ত নিয়মগুলো প্রত্যেক জিমেইল ব্যবহারকারীকে অবশ্যই জানা জরুরি।


AymansGlobal এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url